• রোববার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাড় থেকে হত্যা রহস্য উদঘাটন

  জে রাসেল, ফরিদপুর

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৮:৫২
হত্যাকাণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে মাথার খুলি ও বেশ কিছু খণ্ডিত হাড়ের ডিএনএ পরীক্ষা শেষে মরদেহ শনাক্তসহ নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুর ১ টায় পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান।

পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান জানান, ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ি জেলার বালিয়াকান্দি থানার খর্দ্দ মেঘচামী খাসকান্দি গ্রামের আকিদুল মোল্যার ছেলে আল আমিন মোল্যা (১৭) নিখোঁজ হন। এর প্রায় তিন মাস পর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ছাইভাঙ্গার বিলে অজ্ঞাত একটি মরদেহের মাথার খুলিসহ কয়েক টুকরো হাড় উদ্ধার করে মধুখালী থানা পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও মাগুরা এই তিন জেলায় বিভিন্ন খোঁজ খবর করার পর আমরা নিখোঁজ আলামিনের বাবা মা ও হাড়ের ডিএনএ সংগ্রহ করে সিআইডি এর ল্যাবে পাঠাই। তিন দিন পুর্বে আমরা রিপোর্ট হাতে পাই যাতে প্রমানিত হয় হাড়গুলো নিখোঁজ আলামিনের। পরে আমরা নিহতের বাবা আকিদুল মোল্যার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে প্রথমে ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির খোর্দ্দ মেগচামী বটতলা থেকে আসামি আলমগীর হোসেন ওরফে জুমাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার দেওয়া তথ্যমতে শনিবার ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে অপর আসামি মনির শেখকে বালিয়াকান্দির নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান আরও জানান, আসামীরা এই হত্যার কথা স্বীকার করে রোমহর্ষক ও নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা করেন। তাদেরকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর জন্য আদালতে প্রেরণ করা হবে।

তারা জানান, নিহত আলামিন ও আসামি আলমগীর একসঙ্গে তাদের এলাকায় মিজানের মুরগির ফার্মে কাজ করতো। নিহতের বাবার সঙ্গে ওই এলাকার কাছিম মোল্যার সুদের টাকাপয়সা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল। অপরদিকে মুরগির ফার্মের কিছু মালামাল চুরির ঘটনায় নিহত আলামিন জড়িত ছিলো। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুরগি ফার্মের কর্মচারীদেরকে টাকা দিয়ে কাছিম মোল্যা অপর দুই সহযোগী আলমগীর হোসেন ও মনির শেখকে সঙ্গে নিয়ে আলামিনকে ধরে নিয়ে ছাইডাঙ্গা বিলের কাছে নিয়ে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তারা চাপাতি দিয়ে আলামিনের শরীর কয়েক টুকরো করে বস্তায় ভরে পাশের বিলের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যায়।

প্রায় তিন মাস পর বিলের পানি শুকানোর পর স্থানীয়রা একটি ছেঁড়া বস্তায় মানুষের হাড়গোড় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী কাছিম মোল্যা গ্রেফতারের পূর্বেই মারা যান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ আব্দুল্লাহ বিন কালাম, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.odhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhikar@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড