• বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

প্রিয়তমায় মেতেছে ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ‘মণিহার’

  মোস্তাকিম আল রাব্বি সাকিব, মনিরামপুর (যশোর)

১২ জুলাই ২০২৩, ১০:৪৭
প্রিয়তমায় মেতেছে ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ ‘মণিহার’
ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ মণিহারে চলছে প্রিয়তমা সিনেমা (ছবি : অধিকার)

‘হাওয়া’, ‘পরাণ’ সিনেমার পর এবার ‘প্রিয়তমা’য় প্রাণ ফিরে পেয়েছে যশোরের ঐতিহ্যবাহী মণিহার প্রেক্ষাগৃহ। সিনেমাটি দেখতে ইদের দিন থেকেই প্রতিটি শোতে দর্শকের উপচে-পড়া ভিড় দেখা গেছে।

মণিহার প্রেক্ষাগৃহে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সন্ধ্যা ছয়টায় প্রেক্ষাগৃহের সামনে দর্শকের উপচে-পড়া ভিড়। এর মধ্যে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেশি। কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে টিকিট নিচ্ছেন। এরপর লাইন দিয়ে প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে দর্শকদের প্রবেশ করানো হচ্ছে। এর মধ্যে ‘প্রিয়তমা’ পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দর্শকদের অনেকে সেলফি তুলে দুই লাইন মন্তব্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে দিচ্ছেন।

প্রদর্শনী শেষে প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছিলেন আরেক দর্শক নিলুফা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, সিনেমার শেষ দৃশ্যটি অনেক কষ্টের। দর্শকদের চোখে জল চলে আসে। খুব কেঁদেছি।

সিনেমা উপভোগ করতে আসা দর্শক খাদিজা ইসলাম বলেন, প্রিয়তমা সিনেমাটি দেখতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মণিহারে এসেছি। প্রিয়তমার মতো সিনেমা নির্মাণ করা হলে আমরা দল বেঁধে হলে (প্রেক্ষাগৃহে) দেখতে আসি। একটা ভালো সিনেমা দেখলাম। এর আগে সর্বশেষ ‘পরাণ’ সিনেমা দেখছিলাম। ভালো গল্প ও অভিনয়-নির্ভর সিনেমা তৈরি হলে দর্শক অবশ্যই হলে আসেন। ‘প্রিয়তমা’, ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ তার প্রমাণ।

সাব্বির হোসেন নামে এক দর্শক বলেন, শাকিব খান সচরাচর যেসব ছবিতে অভিনয় করেন, সেটা থেকে এই সিনেমা ব্যতিক্রম। সিনেমা দেখে অনেক ভালো লাগল। শাকিবের যে লুক, এই সিনেমাতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগের সিনেমা থেকে তার এই সিনেমাতে অভিনয় অনেক ভালো হয়েছে। খুব সুন্দর ছিল সিনেমাটি। বলা যায় অসাধারণ।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ থেকে দলবেঁধে এসেছেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, চোখে জল আসার মতো গল্প। বারবার শাকিব খান তার প্রিয়তমাকে ভুলে না গেলেও বারবার ভুলে যাওয়ার যে অভিনয় করেছেন, সেটা অসাধারণ। অনেকের জীবনে এ ধরনের কাহিনী লুকিয়ে আছে যে আমরা প্রিয়তমাকে রাগ করে ভুলে যেতে পারি, আসলে প্রিয়তমাকে ভোলা যায় না। যদিও সিনেমা হলে প্রথমবার এসেছি। আমার দেখা শাকিব খানের সেরা সিনেমা এটি। শুধু দর্শক নন, প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষও খুব খুশি।

মণিহার প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দেশে বাংলা সিনেমার যে দুর্দিন চলছে, তার মধ্যে “প্রিয়তমা” সিনেমাটাকে ব্যবসাসফল বলতেই হয়। “পরাণ” ও “হাওয়া” সিনেমার পর এটিই ব্যবসাসফল সিনেমা। প্রতি শোতে ভালোই দর্শক হচ্ছে। আমরা খুশি।’ তিনি বলেন, এক সপ্তাহ চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও ‘প্রিয়তমা’ দুই সপ্তাহ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দর্শক চাইলে আরও সময় ধরে চলতে পারে।

এক হাজার ৪০০ আসনের দেশের সবচেয়ে বড় প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে পরিচিত যশোরের মণিহার। একসময় ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা মুক্তি দেওয়া হতো। সিনেমার ব্যবসার দুর্দিনে ‘প্রিয়তমা’য় মুগ্ধ দর্শক ও প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ। সিনেমার টিজার, গান দেখে মুক্তির আগেই সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে সিনেমাটি। ইদের দিন থেকে মণিহারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন দর্শক।

প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ইদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত ২০টি প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে আট থেকে নয় হাজার মানুষ সিনেমাটি দেখেছেন। মণিহারে টিকিটের দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। এ হিসাবে মাত্র পাঁচ দিনে প্রায় ১১ লাখের বেশি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে।

যদিও মোট কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেটা পরিষ্কার করে বলতে চাননি প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু কয়েকটি শো সরেজমিনে দেখা গেছে, দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। অনেকের ধারণা, নয় হাজার নয় কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ মণিহারে ‘প্রিয়তমা’ উপভোগ করেছেন।

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- inbox.odhikar@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

নির্বাহী সম্পাদক: গোলাম যাকারিয়া

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118243, +8801907484702 

ই-মেইল: inbox.odhikar@gmail.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড